ছবি ৩টি বোঝার জন্য সারসংক্ষেপঃ
Blade Runner (১৯৮২) গল্পটা
এরকম:
2.
চারজন রেপ্লিক্যান্ট (নেতা Roy Batty-সহ) পালিয়ে পৃথিবীতে
চলে আসে — তারা চায় তাদের নিজেদের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে, কারণ তারা মৃত্যুকে ভয় পায়, ঠিক মানুষের মতোই।
3.
Deckard নামের এক প্রাক্তন পুলিশ অফিসার (যার কাজ ছিল "ব্লেড রানার" —
অর্থাৎ পলাতক রেপ্লিক্যান্টদের খুঁজে "রিটায়ার" (হত্যা) করা) আবার এই
কাজে ফিরতে বাধ্য হয়। তাকে দিয়ে এই চারজনকে খুঁজে বের করানো হয়।
4.
পথে Deckard-এর দেখা হয় Rachael-এর সাথে,
যে নিজেও একজন রেপ্লিক্যান্ট কিন্তু তা জানে না — তার মধ্যে
বসানো আছে অন্য একজনের ছেলেবেলার স্মৃতি। দুজনের মধ্যে জটিল সম্পর্ক তৈরি হয়, আর Deckard
প্রশ্ন করতে শুরু করে — রেপ্লিক্যান্ট আর মানুষের মধ্যে
আসলে পার্থক্যটা কোথায়?
5.
একে একে Deckard
তিনজন রেপ্লিক্যান্টকে "রিটায়ার" করে। শেষে সে
মুখোমুখি হয় Roy
Batty-র সাথে — সবচেয়ে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান রেপ্লিক্যান্ট।
ছাদের ওপর প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর, Roy যখন বুঝতে পারে তার
নিজের আয়ু শেষ হয়ে আসছে,
তখন সে প্রতিশোধ না নিয়ে বরং Deckard-কে বাঁচিয়ে দেয়। মৃত্যুর ঠিক আগে সে বলে যায় তার দেখা বিস্ময়কর সব দৃশ্যের
কথা — "বৃষ্টির মধ্যে চোখের জলের মতো হারিয়ে যাবে সময়ে" — এই বিখ্যাত
সংলাপ বলে সে মারা যায়।
6. শেষে Deckard আর Rachael একসাথে পালিয়ে যায়, রেখে যায় একটাই অমীমাংসিত প্রশ্ন — Deckard নিজেও কি আসলে মানুষ, নাকি রেপ্লিক্যান্ট?
Blade Runner 2049 (২০১৭) গল্পটা
এরকম:
2.
K-র
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে নির্দেশ দেন এই সন্তানকে খুঁজে বের করে "মুছে ফেলতে,"
কারণ রেপ্লিক্যান্ট আর মানুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণিত
হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একই সাথে Tyrell Corporation-এর উত্তরসূরি Niander Wallace-ও এই সন্তানকে খুঁজছে,
কারণ এর মধ্যে লুকিয়ে আছে রেপ্লিক্যান্ট উৎপাদনের চাবিকাঠি।
3.
তদন্ত করতে করতে K বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সে নিজেই হয়তো
সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তান — তার ছোটবেলার একটা স্মৃতি (একটা কাঠের ঘোড়া লুকানোর
ঘটনা) সত্যি বলে মনে হয়। এই বিশ্বাস তাকে নতুন করে ভাবায় — সে কি সত্যিকারের,
“বিশেষ” কেউ, নাকি স্রেফ
আরেকটা রেপ্লিক্যান্ট?
4.
তার খোঁজ তাকে নিয়ে যায় ৩০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা Rick Deckard-এর কাছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত লাস
ভেগাসে সে আজ নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে। শেষে জানা যায়,
K আসলে সেই সন্তান নয় — আসল সন্তান একজন নারী, Dr. Ana
Stelline, যে স্মৃতি তৈরির কাজ করে এবং Dr. Ana-র নিজের তৈরি স্মৃতিই K-র মধ্যে বসানো হয়েছিল।
5. এই সত্য জানার পরেও K সিদ্ধান্ত নেয় Deckard-কে বাঁচাতে এবং তাকে তার মেয়ে Ana-র সাথে মিলিয়ে দিতে। শেষ দৃশ্যে, তুষারপাতের মধ্যে গুরুতর আহত K সিঁড়িতে শুয়ে আছে, এমন সময় Deckard ভেতরে ঢুকে প্রথমবারের মতো তার মেয়ে Dr. Ana-র সাথে দেখা করে। K-র নিজের অস্তিত্ব "বিশেষ" না হলেও, সে বেছে নেয় একটা অর্থপূর্ণ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় — শেষমেশ এটাই ছবির মূল প্রশ্ন হয়ে ওঠে: মানুষ হওয়ার জন্য কি জন্মসূত্র জরুরি, নাকি নিজের বেছে নেওয়া কাজই আসল পরিচয়?
ছোটদের ছবি (২০১৪) গল্পটা এরকম:
1.
গল্পের কেন্দ্রে এক সার্কাস দল, যেখানে
বামনাকৃতির মানুষেরা জোকার হিসেবে কাজ করে মানুষকে আনন্দ দেয়। Khoka এমনই একজন জোকার,
যার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু Shibu একজন ট্র্যাপিজ শিল্পী।
2.
একদিন সার্কাসের মঞ্চে ট্র্যাপিজের খেলা দেখাতে গিয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনায় পড়ে Shibu — সে সারাজীবনের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। সার্কাসের মালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে
সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিতে চায়, যা Shibu-র পরিবারের জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে Khoka নিজের চাকরি ছেড়ে দেয় এবং Shibu-র পরিবারের সম্পূর্ণ
দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
3.
দারিদ্র্য আর সমাজের অবহেলার সাথে লড়াই করতে করতে Khoka বুঝতে পারে সে ভালোবেসে ফেলেছে Shibu-র মেয়ে Soma-কে। কিন্তু গল্পটা সহজ,
মিলনাত্মক প্রেমকাহিনি হয়ে ওঠে না — Soma স্পষ্ট জানিয়ে দেয়,
সে Khoka-কে বিয়ে করতে রাজি নয়, কারণ সে চায় না তার
সন্তানও বামনাকৃতির কষ্ট আর সামাজিক অবহেলার শিকার হোক। এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে, Khoka মুখে মিকি মাউসের মুখোশ পরে হাসিমুখেই Shibu-র মৃত্যু আর
পরিবারের কষ্টের জন্য কেঁদে ওঠে — সার্কাসের হাসি আর জীবনের কান্না একসাথে ফুটে
ওঠে এই একটা দৃশ্যে।
4. শুরুতে আঘাত পেলেও, Khoka শেষমেশ Soma-র সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায় এবং তাকে আজীবনের বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি দেয়। ছবিটা শেষ হয় তাদের নতুন খুঁজে পাওয়া খুশির কিছু মুহূর্তের কোলাজ দিয়ে — কোনো চিরাচরিত "হ্যাপি এন্ডিং" নয়, বরং বাস্তব জীবনের মতোই একটা শান্ত, সৎ পরিণতি। ছবিটা প্রশ্ন তোলে — সমাজ যাদের "ছোট" বলে দেখে, তাদের ভেতরের জগৎ, ভালোবাসা আর আত্মমর্যাদা আসলে কতটা বড়।
ছবি ৩টি দেখার পর এই হ্যান্ডআউট পড়ুন: তিনটি ছবি, নয়টি দৃশ্য
প্রতিটি ছবি থেকে তিনটি করে দৃশ্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
দেখার সময় প্রতিটি দৃশ্যের পাশে নোট লিখুন।
১. Blade Runner (১৯৮২)
পরিচালক: রিডলি স্কট |
সিনেমাটোগ্রাফার: Jordan Cronenweth
|
সময় |
দৃশ্য |
যা লক্ষ
করবেন (৫টি C + আলো/রঙ) |
|
শুরুর দৃশ্য |
লস অ্যাঞ্জেলেসের রাতের আকাশে আগুনের কুণ্ডলী, উড়ন্ত গাড়ি; এক
বিশাল চোখের ক্লোজ-আপ শহরের প্রতিফলন ধরে রাখে। এরপর Tyrell Corporation-এ
Leon-এর Voight-Kampff টেস্ট। |
Link = Opening Scene ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল: চোখের extreme close-up বনাম শহরের wide
shot — স্কেলের বৈপরীত্য। রঙ: রাতের অন্ধকারে কমলা আগুনের শিখা (উষ্ণ) বনাম শহরের
ঠান্ডা নীল আলো। কম্পোজিশন: ধোঁয়া ও কুয়াশা দিয়ে ফ্রেমে গভীরতা (deep
perspective) তৈরি করা হয়েছে। |
|
মাঝামাঝি |
Tyrell Corporation-এর অফিসে
Deckard প্রথম Rachael-কে টেস্ট করেন। জানালার পর্দার (venetian blind) ফাঁক
দিয়ে আলো ঘরে পড়ছে। |
Link = Voight-Kampff test on Rachael লাইটিং: লো-কি, চিয়ারোস্কুরো লাইটিং — পর্দার ছায়া মুখের
ওপর ডোরাকাটা প্যাটার্ন তৈরি করছে (থ্রি-পয়েন্ট লাইটিং ভেঙে রহস্য বাড়ানো
হয়েছে)। ক্লোজ-আপ: Rachael-এর মুখের প্রতিক্রিয়া বোঝাতে টাইট ক্লোজ-আপ
ব্যবহার হয়েছে। কন্টিনিউইটি: প্রশ্নোত্তরের ছন্দ অনুযায়ী শট বদল (cutting) দুই
চরিত্রের মধ্যে টেনশন বাড়ায়। |
|
শেষ দৃশ্য |
ছাদে বৃষ্টির মধ্যে Roy Batty-র মৃত্যুর আগে বিখ্যাত "tears in
rain" মনোলগ। একটি সাদা পায়রা আকাশে উড়ে যায়। |
Link = Tears in Rain ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল: শুরুতে Roy উঁচু থেকে (low-angle বিপরীত
অর্থে ক্ষমতাশালী) দেখা যায়, শেষে Deckard-কে বাঁচানোর পর তার ভঙ্গি বদলায়। লাইটিং: ব্যাক লাইট/রিম লাইট দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ও চুলের
রূপরেখা আলোকিত করা হয়েছে। রঙ: ঠান্ডা, ধূসর-নীল টোন — একাকিত্ব ও করুণা বোঝাতে। |
২. Blade Runner 2049 (২০১৭)
পরিচালক: দেনি ভিলনভ |
সিনেমাটোগ্রাফার: Roger Deakins
|
সময় |
দৃশ্য |
যা লক্ষ
করবেন (৫টি C + আলো/রঙ) |
|
শুরুর দৃশ্য |
K-এর উড়ন্ত গাড়ি ধূসর, কমলা আকাশের নিচে Sapper Morton-এর প্রোটিন
ফার্মের দিকে উড়ে যায়। বিশাল, ফাঁকা প্রান্তর। |
Link = Opening Scene কম্পোজিশন: ওয়াইড শট, নেগেটিভ স্পেস ব্যবহার করে K-কে ছোট ও
একা দেখানো হয়েছে (motivated composition, রুল অফ থার্ডস ভাঙা)। রঙ: ধূসর-কমলা, প্রায় monochrome প্যালেট — শীতল,
নিস্তব্ধ অনুভূতি। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল: হাই পার্সপেক্টিভ থেকে জমি দেখানো,
মানুষের ক্ষুদ্রতা বোঝাতে। |
|
মাঝামাঝি |
লাস ভেগাসের ধ্বংসপ্রাপ্ত
ক্যাসিনোতে Deckard-এর লুকানো ঘর; কমলা ধুলোর কুয়াশা, পুরনো হলোগ্রাম
(Elvis/Sinatra) মিটমিট করে জ্বলছে। |
Link = Orange রঙ ও লাইট: পুরো দৃশ্য গাঢ় কমলা রঙে ডোবানো (monochrome warm
grading) — অতীতের স্মৃতি ও ক্ষয়ের অনুভূতি। কন্টিনিউইটি: হলোগ্রামের নড়াচড়া বাস্তব চরিত্রের নড়াচড়ার সাথে
মেলানো হয়েছে কিনা লক্ষ্য করুন। কম্পোজিশন: ধুলো ও কুয়াশা দিয়ে ফ্রেমের গভীরতা তৈরি হয়েছে। |
|
গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য |
বৃষ্টির রাতে রাস্তায় বিশাল, নীল রঙের Joi হলোগ্রাম বিজ্ঞাপন K-এর
মাথার ওপর দিয়ে যায়। |
Link = Joi's Holographic Image রঙ: নীল-বেগুনি নিয়ন আলো K-এর মুখে প্রতিফলিত হয় —
টেকনোলজি ও একাকিত্বের সংযোগ বোঝাতে। স্কেল ও কম্পোজিশন: বিশাল হলোগ্রাম বনাম ক্ষুদ্র K —
ফ্রেমের মধ্যে power ও powerlessness-এর সম্পর্ক। ক্লোজ-আপ: K-এর মুখের প্রতিক্রিয়ার ক্লোজ-আপ আবেগ বোঝায়। |
৩. ছোটদের ছবি (২০১৪)
পরিচালক: কৌশিক গাঙ্গুলী |
সিনেমাটোগ্রাফার: সৌমিক হালদার (Soumik Halder)
|
সময় |
দৃশ্য |
যা লক্ষ
করবেন (৫টি C + আলো/রঙ) |
|
শুরুর দৃশ্য |
সার্কাসে ট্র্যাপিজ শিল্পী Shibu-র দুর্ঘটনা — তার পতন এবং পরবর্তী
পঙ্গুত্ব এই ছবির কেন্দ্রীয় ঘটনা। |
ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও উচ্চতা: সিনেমাটোগ্রাফার সৌমিক হালদার
ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরা নিচু রাখেন, যাতে বামনাকৃতি চরিত্রদের নিজেদের চোখের
উচ্চতা থেকে গল্প বলা যায়। লাইটিং: প্রাকৃতিক, সহজ আলো — নাটকীয়তা এড়িয়ে বাস্তবতা ধরে রাখা
হয়েছে। কন্টিনিউইটি ও কাটিং: দুর্ঘটনার পরের প্রতিক্রিয়া শট বাই শট ধীরে
দেখানো হয়েছে। |
|
মাঝামাঝি (আবেগঘন দৃশ্য) |
Khoka, মুখে মিকি মাউসের
মুখোশ পরে, Shibu-র মৃত্যু ও পরিবারের কষ্টের জন্য কাঁদছেন এবং আক্ষেপ করছেন। |
কম্পোজিশন: হাস্যরসাত্মক
মুখোশ ও করুণ আবেগের বৈপরীত্য — motivated composition-এর শক্তিশালী উদাহরণ
(নিয়ম না মেনে দৃশ্যকে আরও জোরালো করা)। ক্লোজ-আপ: মুখোশের পেছনের
প্রকৃত আবেগ বোঝাতে ক্লোজ-আপ ব্যবহার লক্ষ করুন। রঙ ও লাইট: সাধারণ, নিরপেক্ষ
দিনের আলো — দুঃখকে অতিরঞ্জিত না করে সত্যি রাখা। |
|
শেষ দৃশ্য |
Soma, নিজের সন্তান যেন বামনাকৃতির কষ্ট আবার না পায় বলে Khoka-র
সাথে সম্পর্কে রাজি হন না; শেষে তাদের নতুন খুশির মুহূর্তগুলোর কোলাজ শট দেখানো
হয়। |
কন্টিনিউইটি ও কাটিং: ছোট ছোট শটের কোলাজ (montage) দিয়ে সময়ের
এগিয়ে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। কম্পোজিশন: চরিত্রদের একসাথে ফ্রেমে রাখা বনাম আলাদা রাখা —
সম্পর্কের অবস্থা বোঝাতে। লাইটিং: নরম, উষ্ণ আলো — আশা ও স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি তৈরি করতে। |
নির্দেশনা:
প্রতিটি দৃশ্য দেখার সময় টাইমকোড লিখে রাখুন। ক্লাসে
আলোচনার সময় আপনাকে যেকোনো একটি দৃশ্য বেছে নিয়ে ৫টি C-এর আলোকে ব্যাখ্যা করতে
বলা হতে পারে।
No comments:
Post a Comment